সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০২৬
26.5 C
Dhaka

আরও পড়ুন

স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ রাজশাহীতে জুয়েলার্স দোকান থেকে

ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা ছবি : সংগ্রহীত

রাজশাহীর সাহেববাজারের স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্স থেকে স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত ৭ চোরসহ এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাগেরহাটের মোংলার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে এবং ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের আ. হাকিমের ছেলে স্বপন (৬২) ও ইউনুস (৪৫), মানিক ফকিরের ছেলে উজ্জল (৩৭), মতি ফকিরের ছেলে রিয়াজ সুমন সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলার খোন্তাকাটার (জিমতলা) মোসাকের ছেলে আবু তালেব (৪৫), পূর্ব খোন্তাকাটার শেখ ফজলু শেখের ছেলে কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের তথ্যে চোরাই মাল কেনাবেচায় জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকেও ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। চুরির বাকি মালামাল উদ্ধার ও জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

আরএমপির মুখপাত্র জানান, গত ১৯ জুন ভোরে ১০/১২ জন চোর ঘটনাস্থল কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে এসে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকানের আড়ালে কৌশলে জটলা করে এবং পাশের স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই দোকানের দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে। এরপর সিন্দুক থেকে (বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী) প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে।

এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার জেরে আরএমপির ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ধুরন্ধর। তারা একটি মোবাইল সিমকার্ড একবার ব্যবহার করে। যা অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। অন্য ব্যক্তিরাও ঐ সিম নিবন্ধরে বিষয়টি জানে না। চক্রের সদস্যরা ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে, নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকে না।

তার ভাষ্য, চক্রটি বছরে ২/১টি বড় চুরি করে। চুরির আগে তারা ৩/৪ মাস এলাকা ও শিকারের তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধ সংঘটনের পর নিরাপদে পালানোর পথ নির্ধারণ করে। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় ৪ মাস আগে চক্রের সদস্যরা রাজশাহীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নিয়ে ব্যবসার কথা বলে দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here