শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
25.5 C
Dhaka

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি, হরমুজের কাছে ইরানে মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে ইরানের একটি বিমান বিধ্বংসী সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নতুন করে নির্মিত ওই স্থাপনাটি চালু হওয়ার পরপরই গত রাতে হামলা চালানো হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযানটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান প্রায় দুই মাস ধরে একটি বিমান বিধ্বংসী স্থাপনা তৈরি করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে সেটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে হামলা চালানো হয়।

ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ছিল সীমিত বা ছোট আকারের হামলা, কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পরিকল্পনা কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি অনেক মানুষকে হত্যা করতে চান না। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশ করে। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের গুলিবর্ষণের পর পাল্টা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হামলা চালানো হয়। ইরানি বাহিনী যেন প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিও অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে প্রণালিটিকে ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানিবাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, বিস্ফোরণের সময় আকাশে দুটি যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলতি বছরের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এত দিন ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে যথেষ্ট সক্ষম। তাই দেশটিকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইসরায়েলের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

তবে এ ঘোষণার সঙ্গে বিদ্যমান মার্কিন-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির সময়সীমার কিছুটা অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলকে বছরে ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প কীভাবে চলতি বছরের শেষেই এই অর্থায়ন বন্ধ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প একদিকে সীমিত সামরিক হামলার কথা স্বীকার করলেও অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ফলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তা বন্ধের ঘোষণা—দুই বিষয়ই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, গালফ নিউজ,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here