রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
26.5 C
Dhaka

আরও পড়ুন

মিয়ানমারে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া ১,৫০০ অভিবাসীকে

ছবি: সংগৃহীত

সব সতর্কতা ও নিষেধ উড়িয়ে দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১৫০০ মিয়ানমার নাগরিককে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের আপত্তি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মালয়েশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপের আওতায় প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৯ জন মানুষকে যুদ্ধজাহাজ ও একটি হসপিটাল শিপে করে ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে আটক থাকা প্রায় ১০ হাজার ৩শ মিয়ানমার নাগরিকের মধ্যে থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে এভাবে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে এরা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শরণার্থী ও অভিবাসীরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছেন, কারণ যুদ্ধপীড়িত মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার মতো কেউ নেই।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আক্ষেপ করে বলা হয়েছে, এই মানুষগুলো আসলেই নিজেদের ইচ্ছায় ফিরছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য তাদের কর্মকর্তাদের ওই নাগরিকদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

spot_img

মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের বড় একটা অংশই নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম। তবে এই প্রথম দফায় ফেরত পাঠানো দলে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা আছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। দেশটিতে শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার অজুহাত তুলে গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই প্রত্যাবাসন চালুর ঘোষণা দেন। চলতি বছর মালয়েশীয় পুলিশের ধরপাকড়ে প্রায় ৫০ হাজার শরণার্থী আটক হয়েছেন।

যদিও মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি এবং সেখানে থাকা শরণার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখে, তবুও ইউএনএইচসিআরের হিসেবে দেশটিতে প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যার বড় একটা অংশই রোহিঙ্গা।

এর আগে মিয়ানমার সরকার এই ফেরাটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হবে বলে কথা দিলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দেশে ফিরেই এসব মানুষ চরম নির্যাতন কিংবা জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার শিকার হতে পারেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে এ পর্যন্ত লাখের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। খুব শিগগিরই মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লায়িংয়ের মালয়েশিয়া সফরের কথা রয়েছে, যেখানে এই বিতর্কের রেশ ধরে আরও আলোচনা হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here