রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

আরও পড়ুন

সমুদ্রের তলদেশে ৯টি বিশাল পাথর ফেলল গ্রিনপিস, কেন এই উদ্যোগ?

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের গভীর সমুদ্রে ৯টি বিশাল পাথর স্থাপন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস। ক্ষতিকর বটম ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধ করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, পাথর স্থাপনের ফলে উত্তর সাগরের প্রায় ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সমুদ্রের তলদেশ ঘেঁষে মাছ ধরার ট্রলারের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বটম ট্রলিং মাছ ধরার এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘেঁষে টেনে নেওয়া হয়। এতে মাছ ধরার পাশাপাশি সমুদ্রের নিচে থাকা প্রবাল, উদ্ভিদ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়। ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই ক্ষতি ঠেকাতেই সমুদ্রের তলদেশে পাথর ফেলে ট্রলারের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে গ্রিনপিস। সংগঠনটির ভাষ্য, তাদের এই উদ্যোগে সাউদার্ন নর্থ সি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার প্রায় ১১৬ বর্গকিলোমিটার অংশ বটম ট্রলিং থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বছরের পর বছর রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। এ কারণে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পাথর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

সংগঠনটির মতে, সমুদ্রের তলদেশে ভারী জাল টেনে মাছ ধরার ফলে সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রলিংয়ের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ পারপয়েস নামের এক প্রজাতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর শিকার করার সক্ষমতাও ব্যাহত করছে।

গ্রিনপিসের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও পল্লিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় দেশটিতে কঠোর আইন রয়েছে। সমুদ্রে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলার পাশাপাশি অন্য ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

ওই মুখপাত্র আরও জানান, যুক্তরাজ্যের শতাধিক এলাকায় ইতোমধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাছ ধরার পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

গ্রিনপিসের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় দুই টন। পাথরগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে নৌচলাচলের মানচিত্র হালনাগাদ করে অন্যান্য জাহাজকে সতর্ক করা যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিন ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনও পাথরগুলোর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ গ্রিনপিসের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল উপকূলেও একই উদ্দেশ্যে ১৮টি বড় পাথর স্থাপন করেছিল সংগঠনটি। এবার ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে নতুন করে পাথর ফেলার মাধ্যমে ক্ষতিকর মাছ ধরার পদ্ধতির বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা আরও জোরালো হলো।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here