শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
26.8 C
Dhaka

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মুসলিম নিধন

ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর শীর্ষনেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করেছে। এটা যে পরিকল্পিত ও টার্গেটেড কিলিং, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে ইসরাইল একের পর এক পারদর্শিতা দেখিয়ে আসছে। এক সপ্তাহ আগে ওই বৈরুতেই হিজবুল্লাহর জেষ্ঠ্য কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলকে হত্যা করে ইসরাইল। স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৯২ সালে এক হেলিকপ্টার গানশিপ হামলায় ইসরাইল হাসান নাসরুল্লাহর পূর্বসূরী আব্বাস আল মুসাভীকেও হত্যা করে। হিজবুল্লাহকে নেতৃত্বশূন্য ও দুর্বল করার জন্যই ইসরাইল পূর্বাপর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষদের। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবিলায় হিজবুল্লাহ ও হামাস নামের সংগঠন দু’টি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। গত এক বছর যাবৎ ইসরাইল গাজায় হামলা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। কত মানুষ যে আহত ও পঙ্গু হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। গাজাকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। গাজাযুদ্ধে ইসরাইল ভয়ংকর বাংকার ব্লাস্টার বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের বোমা ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ২৫ হাজার টনের মতো বোমা গাজায় ফেলা হয়েছে। হামাসের অধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমদ ইয়াসিনকে ২০০৪ সালে এক সুপরিকল্পিত হামলায় হত্যা করে ইসরাইল। তিনি ছিলেন অন্ধ এবং হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না। কিছুদিন আগে ইরানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকেও ইসরাইল হত্যা করে। প্রশ্ন উঠতে পারে, হিজবুল্লাহ ও হামাসের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননে নির্বিচার গণহত্যা কি ইসরাইলকে শান্তিময় ও নিরাপদ করতে পারছে? উত্তর হচ্ছে, না। হিজবুল্লাহ ও হামাসকে নিঃশেষ ও দুর্বল করতে পারছে? এরও উত্তর না।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। যখন ফিলিস্তিনে বা লেবাননে মুসলমানদের ওপর ইসরাইল হামলা চালিয়েছে তখনই হিজবুল্লাহ রুখে দাঁড়িয়েছে। আঘাতের প্রত্যাঘাত করেছে। ২০০৬ সালের সংঘাতে অচিন্তনীয় ধাক্কা খায় ইসরাইল। ইসরাইলকে পিছু হটতে বাধ্য করে হিজবুল্লাহ। কার্যত পরাজিত হয় হিজবুল্লাহর কাছে। একইভাবে গাজায় অবরোধ আগ্রাসন ও গণহত্যা চালিয়েও হামাসকে বিন্দুমাত্র দমন করতে পারেনি। গাজাকে রীতিমত তামা করে দেয়ার পরও হামাসকে কিছু করতে পারেনি ইসরাইল। একজন জিম্মি ইসরাইলিকেও মুক্ত করতে পারেনি। অনেকেরই জানা, সিরিয়ায় ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সৃষ্ট আইএসআই এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় অভূতর্পূব সাফল্যের পরিচয় দেয় হিজবুল্লাহ। তাদের মতলব ব্যর্থ করে দেয়। আসলে নেতা হত্যা, গণহত্যা কোনো কিছুই সভ্য ও ন্যায়ের সংগ্রামকে থামিয়ে দিতে পারে না। মানুষ হত্যা করা যায় কিন্তু আইডিয়া, আদর্শ, দর্শন ও লক্ষ্যকে ধ্বংস করা যায় না। ১৯৮২ সালে ইসরাইল লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে দক্ষিণ লেবানন দখল করে নেয়। ব্যাপক ধ্বংস ও গণহত্যা চালায়, যেমনটা এখন করছে গাজায়। ৬ জুন থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল পিএলওকে ধ্বংস করা। তখন পিএলওর সদর দফতর ছিল লেবাননে। বলা বাহুল্য, পিএলওকে ধ্বংস করা যায়নি। বলা যায়, এরপর পিএলও আরো সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়। পিএলও এবং তার অবিসংবাদি নেতা ইয়াসির আরাফাতের অর্জন তার সাক্ষ্য। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুতি কাউকেই সামরিকভাবে দমন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। ইসরাইল এখন একই সঙ্গে গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনে হামলা করছে। এটা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here