রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
28.4 C
Dhaka

আরও পড়ুন

গুরুতর আহত ১, ‎যুবদলের বহিষ্কৃত নেতার গুলিবর্ষণ

‎রাজধানীর বাংলামোটরে কথা কাটাকাটির জেরে সোহাগ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে হাতিরঝিল থানার যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের বিরুদ্ধে। পরে সেখানে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। আহত সোহাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় রয়েছেন।

‎‎বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটর মোড়ের উত্তর পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

‎‎হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ যুগান্তরকে বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী কয়েকজনকে ধাওয়া দিয়ে একটি ভবনের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে এসআরবি ও সোয়াত সদস্যরা এসে সাইমনসহ চারজনকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান।

‎‎ওসি বলেন, অভিযুক্তদের নিয়ে যেতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ব্যারিকেডের সামনে থেকে এলাকাবাসীর একটি অংশ পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং আটক ব্যক্তিদের মারধরের চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশে সার্চ করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সেখানে আরও সার্চ ও তদন্ত করছে। গ্রেফতার বাকি তিনজনের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

‎‎স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সোহাগের সঙ্গে ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে সাইমন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পরে তারা একটি ভবনের মধ্যে আশ্রয় নেন।

‎‎ভুক্তভোগী সোহাগ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাইমন, তার ভাইসহ একটি গ্রুপ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির পার্কিংসহ বিভিন্ন জায়গা থেকেও চাঁদাবাজি করা হয়। বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গলির মধ্যে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাইমনের সঙ্গে থাকা ৫ থেকে ৭ জন তাকে মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়।

‎‎তিনি বলেন, সাইমনসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে আটকে ফেলে।

‎‎এলাকার বাসিন্দা মুক্তার বলেন, সাইমন, তার ভাই ওমর ও মিজানসহ তাদের পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

‎‎স্থানীয়রা জানান, সাইমনের সঙ্গে থাকা ৪ থেকে ৫ জন একটি ভবনের ভেতরে ছিলেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাইমনের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ, ডিবি, এসআরবি ও সোয়াত সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

‎‎স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাইমন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক ও বহিষ্কৃত নেতা। তিনি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরবের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মেজো ভাই ওমর, ভাই মিজান এবং বাবার নাম জামাল। সাইমন ওই পাম্পের গলিতে থাকেন এবং সেখানে তার নানির বাড়ি রয়েছে।

‎‎জানা গেছে, আহত সোহাগ মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। তিনি ৬২/এ নিউ ইস্কাটন, হাতিরঝিল, ঢাকা ঠিকানার বাসিন্দা।

spot_img

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here