সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০২৬
26.5 C
Dhaka

আরও পড়ুন

২ বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু দ. আফ্রিকায় যাওয়ার পথে

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের একজন নরসিংদীর রবিউল, অন্যজন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মো. নুর আলম। রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনেরা। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে নুর আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রবিউলের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর কথা বলে বাকির নামে এক দালালকে সাত লাখ টাকা দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মাসে মেহেদি নামে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে প্রায় এক মাস ১০ দিনে রবিউলকে জিম্বাবুয়েতে নেওয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, রবিউলের সঙ্গে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, মধ্যবর্তী দালালের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল নির্যাতনের শিকার হন। পরে অসুস্থ হয়ে জিম্বাবুয়েতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

অন্যদিকে, নুর আলম ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের আরাজি চন্দন চহট (মালসুডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. আব্দুল হাশিম।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর তার মৃত্যু হলেও দুইদিন পর ২০ অক্টোবর মৃত্যুর খবর পান। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত জানা যায়নি।

রবিউলের বাবা নায়েব আলী ও মা সুফিয়া বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, নুর আলমের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের এমন মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

দুই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যাচাই, রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাদের স্বজনেরা।

সম্পাদক
সম্পাদকhttps://dailyprovaterdak.com/
I graduated with a B.Com degree in 1994. Journalism is my passion.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here