বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে কিংবা গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তার পরিবারকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে অনেক সময় পুরো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। আবার দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল অর্থের। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর আওতায় গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, আহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ সহায়তা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দুর্ঘটনার প্রমাণ, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং নির্ধারিত আবেদন ফরম জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনেকেই জানেন না, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তার জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়, বিআরটিএর কোন ফরম ব্যবহার করতে হয়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন প্রত্যয়নপত্র নিতে হয় এবং অনলাইনে আবেদন করা যায় কি না। বিশেষ করে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে অর্থ পেতে প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও টি আর ফরম নং ৩২ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।
আরো পড়ুন- সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে এখন অনলাইনে মিলবে আর্থিক সহায়তা
এই প্রতিবেদনে সরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার নিয়ম, আবেদন করার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বিধান, টি আর ফরম নং ৩২-এর ব্যবহার এবং অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা কত টাকা পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং দুর্ঘটনার পরিণতির ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৪৯ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণের মানদণ্ড রয়েছে। এর ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ হলো:
দুর্ঘটনার ধরন
আর্থিক সহায়তা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি
৫ লাখ টাকা
গুরুতর অঙ্গহানি
৩ লাখ টাকা
গুরুতর আহত, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা নেই
৩ লাখ টাকা
গুরুতর আহত, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে
১ লাখ টাকা
এখানে উল্লেখিত অর্থ বিধিমালায় নির্ধারিত সহায়তার পরিমাণ। এটি সাধারণ বিমা দাবি বা দুর্ঘটনার জন্য আদালতে আদায়যোগ্য সব ধরনের ক্ষতিপূরণের সমতুল্য নয়। ট্রাস্টি বোর্ডের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে কত টাকা পাওয়া যাবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর পরিবার বা আইনগত উত্তরাধিকারীরা ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে একজন বৈধ উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দুর্ঘটনার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে তাঁদের উত্তরাধিকার ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। শুধু পরিবারের সদস্য হলেই আবেদনকারীর আইনগত প্রতিনিধিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে কত টাকা পাওয়া যাবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
কোনো ব্যক্তির গুরুতর অঙ্গহানি হলে ৩ লাখ টাকা সহায়তার বিধান রয়েছে। আবার গুরুতর আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলেও ৩ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলে সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ টাকা।
এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রতিবেদন, হাসপাতালের ছাড়পত্র, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাস্টি বোর্ড এসব নথি যাচাই করে সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
সড়ক দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ আবেদন করার নিয়ম
সরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পেতে মূলত নির্ধারিত ফরম-৩২ পূরণ করে আবেদন করতে হয়। আবেদন সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিসে জমা দেওয়া যায়। পাশাপাশি বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের (বিএসপি) মাধ্যমেও অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিসে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
ধাপ ১: দুর্ঘটনার প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করুন
প্রথমে দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। যেমন দুর্ঘটনার তারিখ, স্থান, সময়, থানায় করা মামলা বা জিডির তথ্য, চিকিৎসার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র।
দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং চিকিৎসকের প্রতিবেদন সংগ্রহ করা জরুরি।
ধাপ ২: ফরম-৩২ সংগ্রহ করুন
এরপর বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম-৩২ সংগ্রহ করতে হবে। এই ফরমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয়, দুর্ঘটনার বিবরণ, চিকিৎসার তথ্য এবং আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
ফরমটি বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটের ট্রাস্টি বোর্ড সংক্রান্ত ফরম বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা যায়।
ধাপ ৩: ফরম-৩২ সঠিকভাবে পূরণ করুন
ফরমে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, দুর্ঘটনার তারিখ, স্থান, সময় এবং দুর্ঘটনার বিবরণ নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে। আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন, চিকিৎসার বিবরণ এবং চিকিৎসার ব্যয় সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন
ফরম পূরণ করার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। কাগজপত্রের মধ্যে কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা পরস্পরবিরোধী থাকলে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
ধাপ ৫: সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিসে আবেদন জমা দিন
সরাসরি আবেদন করতে চাইলে দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিসে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনটি চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড বরাবর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা সার্কেল আবেদন গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন তৈরির ব্যবস্থা করবে।
ধাপ ৬: অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে তথ্য জমা দিন
অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। পোর্টালে প্রযোজ্য সেবা নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদনের পর আবেদন নম্বর বা প্রাপ্তি স্বীকার সংরক্ষণ করা উচিত।
ধাপ ৭: আবেদন যাচাই ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণ
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করবে। দুর্ঘটনার সত্যতা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয়, চিকিৎসার তথ্য এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করে ট্রাস্টি বোর্ড সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা আবেদনকারীর নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা উচিত।
আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে:
পূরণ করা ফরম-৩২।
আহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ।
দুর্ঘটনার প্রমাণসংক্রান্ত কাগজপত্র।
থানায় করা মামলা বা জিডির কপি, যদি থাকে।
হাসপাতালের ভর্তি ও ছাড়পত্র।
চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট।
চিকিৎসার ব্যয়ের বিল ও রসিদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।
আবেদনকারীর ছবি ও যোগাযোগের তথ্য, যদি চাওয়া হয়।
ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের ক্ষেত্রে:
পূরণ করা ফরম-৩২।
নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ।
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র।
নিহত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ।
বৈধ ওয়ারিশ সনদ।
আবেদনকারীর সঙ্গে নিহত ব্যক্তির সম্পর্কের প্রমাণ।
দুর্ঘটনার মামলা বা জিডির কপি, যদি থাকে।
প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য।
ট্রাস্টি বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য কাগজপত্র।
বিআরটিএর নির্দেশনায় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয়পত্র, মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয়পত্র, মৃত্যু সনদ এবং বৈধ ওয়ারিশ সনদের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা সার্কেল অফিস থেকে সর্বশেষ চেকলিস্ট সংগ্রহ করা ভালো।
দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিলের আবেদন ফরম
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত আবেদন ফরমের নাম ফরম-৩২ (Form-32)। এটি দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে সহায়তা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফরম।
ফরমটির শিরোনাম:
দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন।
ফরমটি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৯ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১৫০(১)-এর অধীনে নির্ধারিত।
ফরম-৩২-এ কী কী তথ্য দিতে হয়?
ফরম-৩২ পূরণ করার সময় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো দিতে হয়:
১. দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয়: ব্যক্তির নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম ও মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক।
২. ব্যক্তিগত তথ্য: জন্মতারিখ বা বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, চালক হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ এবং ঠিকানা।
৩. দুর্ঘটনার বিবরণ: দুর্ঘটনার স্থান, তারিখ, সময়, দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং মামলা বা জিডি নম্বর।
৪. চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য: আহত ব্যক্তির অসুস্থতা বা আঘাতের বিবরণ, চিকিৎসার সংক্ষিপ্ত তথ্য এবং চিকিৎসার মোট ব্যয়।
৫. বর্তমান ঠিকানা: আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য।
৬. পূর্বে সহায়তা পাওয়ার তথ্য: একই অর্থবছরে আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে কোনো অনুদান পেয়ে থাকলে তার বিবরণ ও টাকার পরিমাণ।
সবশেষে আবেদনকারীকে ঘোষণা দিতে হয় যে, আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য এবং কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। এরপর তারিখ ও স্বাক্ষর দিতে হবে।
ফরম-৩২ কোথা থেকে ডাউনলোড করবেন?
বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটে ট্রাস্টি বোর্ডের ফরম বিভাগে ফরম-৩২ পাওয়া যায়। সেখানে আবেদন ফরম ছাড়াও ফরম-৩৩, ফরম-৩৪ এবং ফরম-৩৫ রয়েছে।
সরকারি ফরমের পাশাপাশি ফরম পূরণের নির্দেশনা ও চেকলিস্টও প্রকাশ করা হয়েছে। ফরম ডাউনলোড করার সময় সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করছেন কি না যাচাই করুন।
ফরম সংগ্রহের সরকারি ঠিকানা: বিআরটিএ ওয়েবসাইটের ট্রাস্টি বোর্ড সংক্রান্ত ফরম বিভাগ।
টি আর ফরম নং ৩২ ওয়ার্ড ফাইল: কীভাবে সংগ্রহ করবেন?
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তার আবেদন করতে গিয়ে অনেকেই Google-এ ‘টি আর ফরম নং ৩২ ওয়ার্ড ফাইল’ লিখে অনুসন্ধান করেন। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন। বিআরটিএর নির্ধারিত আবেদন ফরমটির সরকারি নাম ফরম-৩২ বা Form-32। এটি কোনো ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ প্রত্যয়নপত্র নয়।
সরকারি ওয়েবসাইটে ফরম-৩২-এর ডাউনলোডযোগ্য সংস্করণ পাওয়া যায়। তবে সেটি Microsoft Word-এর DOC বা DOCX ফাইল কি না, তা ডাউনলোডের আগে যাচাই করতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটে PDF সংস্করণ পাওয়া গেলে সেটি প্রিন্ট করে হাতে পূরণ করা যায়।
Word ফাইল হিসেবে প্রয়োজন হলে PDF ফাইলকে Word-এ রূপান্তর করা যেতে পারে। তবে রূপান্তরের পর ফরমের ঘর, লেখা, নম্বর ও মূল কাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্ধারিত মূল ফরমের সঙ্গে মিল থাকা জরুরি।
টি আর ফরম ৩২ ইউনিয়ন পরিষদ: কোন ফরমটি প্রয়োজন?
এখানে অনেকের মধ্যে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তার আবেদন ফরম-৩২ এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংগ্রহ করা ওয়ারিশ সনদ এক জিনিস নয়।
ফরম-৩২ হলো বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের নির্ধারিত আবেদনপত্র। অন্যদিকে, ওয়ারিশ সনদ হলো মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও সম্পর্ক প্রমাণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদ।
দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করার সময় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হতে পারে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর পরিচয় ও মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিও জমা দিতে হতে পারে।
অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফরম-৩২ সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। ফরম-৩২ সংগ্রহ করতে হবে বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিস থেকে। আর ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে।
সড়ক দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তার জন্য বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের (BSP) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এতে আবেদনকারীকে শুধু কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি অফিসে যাওয়ার ওপর নির্ভর করতে হয় না।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দুর্ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
অনলাইনে আবেদনের জন্য কী করবেন?
প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর পোর্টালে প্রযোজ্য অ্যাকাউন্ট বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লগইন করতে হবে।
এরপর সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা বা ট্রাস্টি বোর্ড-সংক্রান্ত সেবা নির্বাচন করতে হবে। নির্ধারিত ফরমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির তথ্য, দুর্ঘটনার তারিখ ও স্থান, আবেদনকারীর পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিতে হবে।
এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা ডিজিটাল ফাইল নির্দেশনা অনুযায়ী আপলোড করতে হবে। সব তথ্য পুনরায় যাচাই করে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন সফলভাবে জমা হলে আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে আবেদন যাচাই বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: বিএসপি পোর্টালের সেবার মেনু বা আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়া মানেই আর্থিক সহায়তা অনুমোদিত হওয়া নয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ আইন কী বলে?
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মূল আইনি ভিত্তি হলো সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮। এই আইনের নবম অধ্যায়ে দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও বিমাসংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
বিশেষ করে ৫২ থেকে ৬১ ধারায় আর্থিক সহায়তা তহবিল, ট্রাস্টি বোর্ড, ক্ষতিপূরণ দাবি, আবেদন এবং পুনর্বিবেচনা ও আপিলের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধারা ৫২: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো মোটরযান থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে ট্রাস্টি বোর্ড নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
ধারা ৫৩: আর্থিক সহায়তা তহবিল
এই ধারার অধীনে দুর্ঘটনায় আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের সহায়তা দেওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের বিধান রয়েছে।
ধারা ৫৪: ট্রাস্টি বোর্ড গঠন
আর্থিক সহায়তা তহবিল পরিচালনার জন্য সরকার ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে। এই বোর্ড দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ধারা ৫৭: তহবিল গঠনের উৎস
এই ধারায় আর্থিক সহায়তা তহবিলের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তার উৎস উল্লেখ রয়েছে।
ধারা ৫৯: আর্থিক সহায়তার আবেদন
এই ধারায় আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বা বৈধ প্রতিনিধির নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া আবেদন পাওয়ার পর অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ও এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ অনুযায়ী আবেদনের সময়সীমা কত দিন?
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা।
বিআরটিএর হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ফরম-৩২ পূরণ করে আবেদন করতে হবে। ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএর পুরোনো কিছু ওয়েবপেজে ৩০ দিনের সময়সীমার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে পরবর্তী হালনাগাদ নির্দেশনায় ৯০ দিনের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই পুরোনো ৩০ দিনের তথ্য অনুসরণ করে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। নিরাপদ থাকার জন্য দুর্ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা ভালো।
আর্থিক সহায়তা তহবিলে কারা অবদান রাখে?
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৩ ও ৫৭ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা তহবিল বিভিন্ন উৎস থেকে গঠিত হয়। এই তহবিলের অর্থ শুধু সরকার এককভাবে প্রদান করে না; বরং মোটরযানের মালিকদের চাঁদা, জরিমানার অর্থ এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান থেকেও তহবিল গড়ে ওঠে।
আইনের ধারা ৫৭ অনুযায়ী তহবিলের প্রধান উৎসগুলো হলো:
সরকারি অনুদান: সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা তহবিলে অর্থ প্রদান করতে পারে।
মোটরযানের মালিকদের চাঁদা: মোটরযানের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মালিক বা প্রতিষ্ঠানকে তহবিলে চাঁদা দিতে হয়। এটি আইনের বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত।
আইনের অধীনে আদায় করা জরিমানা: সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আদায় করা নির্ধারিত জরিমানার অর্থ তহবিলে জমা হয়।
মালিক সমিতির অনুদান: সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি থেকে দেওয়া অনুদানও তহবিলের অর্থের উৎস।
শ্রমিক সংগঠন বা ফেডারেশনের অনুদান: মোটরযান শ্রমিক সংগঠন বা ফেডারেশন থেকে দেওয়া অনুদানও তহবিলে যুক্ত হয়।
অন্যান্য বৈধ উৎস: আইনসম্মত অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থও তহবিলে জমা হতে পারে।
অর্থাৎ মোটরযানের মালিক ও প্রতিষ্ঠান, সরকার, পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন এবং অন্যান্য বৈধ উৎসের অর্থের সমন্বয়ে এই তহবিল গঠিত হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
বিআরটিএ আবেদনের ফরম কোনটি?
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের নির্ধারিত ফরম-৩২ (Form-32) পূরণ করতে হয়। এই ফরমের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী অথবা আহত ব্যক্তি আর্থিক সহায়তার আবেদন করতে পারেন। ফরমটি বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যায়।
আর্থিক সহায়তা তহবিলে কারা অবদান রাখে?
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৭ অনুযায়ী সরকার, মোটরযানের মালিক, মালিক সমিতি, মোটর শ্রমিক সংগঠন বা ফেডারেশন এবং আইনের অধীনে আদায় করা জরিমানার অর্থ থেকে আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠিত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বৈধ উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তার জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়?
দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। নির্ধারিত ফরম-৩২ পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিসে অথবা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। ৯০ দিন পার হলে বিধিমালা অনুযায়ী আবেদনের সুযোগ থাকে না।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার কত টাকা পাবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর পরিবার বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দুর্ঘটনার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি কি আর্থিক সহায়তা পাবেন?
হ্যাঁ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। গুরুতর অঙ্গহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তার বিধান রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের আবেদন কি অনলাইনে করা যায়?
হ্যাঁ। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের (BSP) মাধ্যমে অনলাইনে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা যায়। এজন্য পোর্টালে প্রবেশ করে প্রযোজ্য সেবা নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ এবং কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
টি আর ফরম নং ৩২ কি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংগ্রহ করতে হয়?
না। ফরম-৩২ হলো বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের নির্ধারিত আবেদনপত্র। এটি বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট বা জেলা সার্কেল অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তবে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হতে পারে।
আর্থিক সহায়তার টাকা কীভাবে পাওয়া যায়?
আবেদন যাচাই-বাছাই ও ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনের পর নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা আবেদনকারীর নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
আবেদন করতে কি দুর্ঘটনার মামলা বা জিডি থাকা বাধ্যতামূলক?
ফরম-৩২-এ দুর্ঘটনার মামলা বা জিডি নম্বর উল্লেখ করার ঘর রয়েছে। তাই দুর্ঘটনার বিষয়ে থানার মামলা বা জিডির কাগজপত্র থাকলে তা সংযুক্ত করা উচিত। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কী ধরনের বিকল্প প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিস থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
উপসংহার
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের একটি সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবার ৫ লাখ, গুরুতর অঙ্গহানিতে ৩ লাখ এবং গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থাভেদে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
এ সহায়তা পেতে দুর্ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে ফরম-৩২ পূরণ করে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বিআরটিএ জেলা সার্কেল অফিস অথবা অনলাইনে বিএসপি পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। তাই দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করা জরুরি।




