শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
32.2 C
Dhaka

আরও পড়ুন

দক্ষতা উন্নয়নে আইএলওর সহযোগিতা চাইল সরকার কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের

দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলায় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলওর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে খাপ খাইয়ে নেওয়া, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইএলও বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাক্ষাতে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন কর্মসংস্থানের গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বনায়ন এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় ও নীতিগত উদ্যোগ জোরদার করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে আইএলওর সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

ম্যাক্স টুনোন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইএলওর আওতায় বাস্তবায়নাধীন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ইউনিট হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া জিআইইউতে আইএলওর কারিগরি পরামর্শক নিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে আইএলওর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক ড. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক
সম্পাদকhttps://dailyprovaterdak.com/
I graduated with a B.Com degree in 1994. Journalism is my passion.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here