রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

আরও পড়ুন

ইউজিসি চেয়ারম্যান : শিক্ষকদের শুধু ডিগ্রি নয়, নৈতিকতা-মূল্যবোধ-দায়িত্ববোধও থাকতে হবে

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের শুধু উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা ও একাডেমিক দক্ষতা থাকলেই হবে না; তাদের দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, সততা, মূল্যবোধ ও ন্যায়বোধও সমুন্নত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক সিডিএমে ১০ দিনব্যাপী ‘মাস্টার ট্রেইনার’ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও সমাজের মানুষ একজন আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে অনুসরণ করেন। ফলে একজন শিক্ষকের আচরণ, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আচরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।’

সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা কেন এমন পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছে এবং কীভাবে তাদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় মোকাবিলায় শুধু কোর্স কারিকুলামে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে কি না, সেই বিতর্কে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’

শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যক্রমে বিষয় যুক্ত করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশও সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।’

উচ্চশিক্ষার ইতিবাচক রূপান্তনের জন্য সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর থেকে কয়েকটি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ জন্য মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং ইউজিসির বিভিন্ন কর্মসূচির ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করবেন।

পিএইচডি ফেলোশিপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অন্তত ৫০০ জনকে পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউজিসি। এ বছর গত বছরের তুলনায় ফেলোশিপের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত মানের প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।’

গবেষণার অর্থায়ন প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে গবেষণার জন্য অর্থ ও সুযোগ নেই—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে গবেষণায় আরও বেশি অর্থায়ন ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, হিট প্রকল্পের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মনিনুর রশিদ ও অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, ব্রিটিশ কাউন্সিলের হায়ার এডুকেশন প্রকল্পের সিনিয়র এডুকেশন কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ড. মার্ক ও’হারা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here