শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
32.2 C
Dhaka

আরও পড়ুন

ঋণের টাকায় গড়া কলাবাগানের ১ হাজার ৪০০ গাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

ঋণের টাকায় গড়া কলাবাগানের ১ হাজার ৪০০ গাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা!বগুড়ার শেরপুরে তিন বিঘা জমির কলাবাগান ধ্বংসের অভিযোগ, দুই কৃষকের মাথায় ঋণের বোঝা।

বগুড়ার শেরপুরে ঋণ ও কিস্তির টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা দুই কৃষকের কলাবাগান কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তাঁরা। তিন বিঘা জমিতে গড়ে তোলা বাগানটির এমন পরিণতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দুই কৃষক।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া গ্রামে। ৪ নভেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই দিন বুধবার দুপুরে এ ঘটনায় শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হলেন চোমরপাথালিয়া বাজার এলাকার আবুল কালাম ফেলুর ছেলে ফরিদ এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সত্তার। তাঁরা জমি বর্গা নিয়ে তিন বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। চাষাবাদের খরচ জোগাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে কিস্তিতে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা।অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কলাবাগানে প্রবেশ করে গাছগুলো কেটে দেয়। পরদিন বাগানে গিয়ে ক্ষতির বিষয়টি দেখতে পান কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলায় বাগানের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও অর্থ বিনিয়োগের পর বাগান থেকে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, বাগানের ক্ষতি সামলানোর পাশাপাশি ঋণ ও কিস্তির টাকা পরিশোধ করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিজেদের ফসল ও বাগানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here