শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
32.2 C
Dhaka

আরও পড়ুন

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত-তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা

ইরানকে তেল পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘোষিত এ পদক্ষেপের আওতায় ইরানের তেলবাহী জাহাজের জন্য ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ সরবরাহের অভিযোগে একটি নেটওয়ার্ক এবং ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে সেবা দেওয়া তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রির পথ সংকুচিত করা এবং দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান কমানো।

ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা, তাঁর স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং তাঁদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানও এ তালিকায় রয়েছে।

মার্কিন অর্থ দপ্তরের অভিযোগ, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্রদের হয়ে তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোকে ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ সরবরাহ করতেন। এর মাধ্যমে জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ পেত।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, শর্মা ও তাঁর স্ত্রী গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মিথ্যা দাবি করে জাহাজের পতাকা ও বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা একাধিক ওয়েবসাইট ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণিবিন্যাসের মতো সেবা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ দপ্তরের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, ভারেশ এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান সরকারকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরানকে সহায়তা করবে, তাদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ব্রেট এরিকসনের মতে, নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমানোর পথে এগোতে আগ্রহী নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পরদিনই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশের মধ্যে ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সূত্র: রয়টার্স,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here