রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

আরও পড়ুন

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রামীণ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় শ্রেণির সদস্যদের বেতন মাসে ৩ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

শুধু মাসিক বেতন নয়, অবসরকালীন আর্থিক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অবসরের সময় আগে ৭০ হাজার টাকা আনুতোষিক পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রাম পুলিশ প্রধানদের অবসরকালীন আনুতোষিক ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এবং দায়িত্ব পালনের সুবাদে এলাকার বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আগেভাগেই জানতে পারেন। কোথায় কী ঘটছে, কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে কিংবা কোনো এলাকায় পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

তিনি বলেন, এসব তথ্য যথাসময়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে। তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি বজায় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও পড়বে। স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখাও সহজ হবে।

দেশে শহরায়ন ও নগরায়নের বিস্তার ঘটলেও অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনো গ্রামকেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।

মহাসমাবেশে দেশের অতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজেও ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছিল। পরিকল্পিতভাবে হীনস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মূল্যবোধ বিনষ্ট করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পরিবারে পরিবারেও বিরোধ ও বিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল পর্যায়েও প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন ও অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত জানাল সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here