রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

আরও পড়ুন

টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড হারিয়ে গেলে ডুপ্লিকেট কার্ড পাবেন যেভাবে

টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন করে উপকারভোগী হওয়ার আবেদন করতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। আগে থেকেই টিসিবির তালিকাভুক্ত উপকারভোগী হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ও কার্ডের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোনো লেখায় থানায় জিডি করা, আলাদা আবেদন ফরম পূরণ, ৫০–১০০ টাকা ফি এবং ৭–১৫ কার্যদিবসে কার্ড পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্যকে সবার জন্য প্রযোজ্য বর্তমান নিয়ম হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বরং একটি সরকারি ইউনিয়ন পরিষদের প্রকাশিত নোটিশে ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য অনলাইন সিস্টেমে আবেদন, এনআইডি ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার, ১০৫ টাকা প্রদান এবং ২১ কার্যদিবসের মধ্যে কার্ড পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড হারালে প্রথমে যা করবেন

কার্ড হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দেরি না করে আপনার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। আপনি যে ঠিকানায় টিসিবির উপকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত, সেই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন ও যাচাইয়ের নিয়ম জেনে নিন।

সঙ্গে রাখুন:

উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি বা এনআইডি নম্বর।

টিসিবি কার্ডে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

কার্ডের ছবি বা কার্ড নম্বরের কোনো কপি থাকলে সেটি।

প্রয়োজন হলে উপকারভোগীর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের সহায়ক কাগজপত্র।

কার্ডের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি সচল রাখুন। কারণ ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন বা তথ্য যাচাইয়ে ওই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।

ডুপ্লিকেট টিসিবি কার্ডের আবেদন করবেন যেভাবে

০২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, হারানো টিসিবি স্মার্ট কার্ডের জন্য উপকারভোগীর এনআইডি এবং টিসিবি কার্ডে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে ডুপ্লিকেট ফ্যামিলি কার্ড সিস্টেমে আবেদন করা যাবে। নোটিশে আবেদন ফি ১০৫ টাকা এবং আবেদন গ্রহণের পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে ডুপ্লিকেট কার্ড পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে করণীয় হলো:

1. প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন পদ্ধতি নিশ্চিত করুন।

2. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ডুপ্লিকেট কার্ডের অনলাইন আবেদন সিস্টেমে প্রবেশ করুন। নোটিশে উল্লেখিত সিস্টেমের ঠিকানা ও আবেদন পদ্ধতি স্থানীয় অফিস থেকে যাচাই করে নিন।

3. উপকারভোগীর এনআইডি নম্বর এবং টিসিবি কার্ডে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।

4. আবেদন জমা দেওয়ার আগে নাম, এনআইডি ও মোবাইল নম্বরসহ সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।

5. ফি প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত সরকারি বা অনুমোদিত পদ্ধতিতেই পরিশোধ করুন এবং পেমেন্টের রসিদ বা প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

6. আবেদন জমা হওয়ার পর আবেদন নম্বর বা প্রাপ্তি-স্বীকার সংরক্ষণ করুন। কার্ড প্রস্তুত হলে কোথা থেকে এবং কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জেনে নিন।

মনে রাখবেন: একটি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশে ১০৫ টাকা ও ২১ কার্যদিবসের কথা বলা হয়েছে। এটিকে দেশের সব এলাকার জন্য একই ফি ও নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আপনার এলাকার সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করুন।

কার্ড হারালে থানায় জিডি করতে হবে কি?

টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হারানোর পর ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন করতে হলে সবার ক্ষেত্রে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি বাধ্যতামূলক—এমন কোনো সর্বজনীন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তাই শুধু পুরোনো লেখায় জিডির কথা রয়েছে বলে আগে থেকেই জিডি করাকে বাধ্যতামূলক মনে করবেন না।

তবে কার্ডটি চুরি হয়ে গেলে, অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকলে অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণের জন্য জিডির কপি চাইলে থানায় জিডি করে তার কপি সংরক্ষণ করুন।

ডুপ্লিকেট কার্ড পেতে কত টাকা লাগে?

একটি সরকারি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশে ডুপ্লিকেট টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন ফি ১০৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ফি দেশের সব এলাকায় একইভাবে কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো কেন্দ্রীয় হালনাগাদ নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এ কারণে আবেদন করার আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট টিসিবি কার্যালয়ে ফি সম্পর্কে জেনে নিন। কোনো ব্যক্তি বা দালালের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা দেবেন না।

নতুন কার্ড পেতে কতদিন সময় লাগে?

ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন গ্রহণের পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে কার্ড পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অন্য এলাকায় যাচাই, আবেদন প্রক্রিয়া ও কার্ড সরবরাহের কারণে সময় কম-বেশি হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সময় সম্ভাব্য সংগ্রহের তারিখ জেনে নিন।

পুরোনো কার্ড পাওয়া গেলে কী করবেন?

ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন করার পর হারানো কার্ডটি আবার খুঁজে পেলে নিজে থেকে দুটি কার্ড ব্যবহার করবেন না। পুরোনো কার্ডটি কার্যকর আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাচাই করুন। নতুন কার্ড ইস্যু হয়ে থাকলে পুরোনো কার্ডের বিষয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

অনলাইনে আবেদন করতে না পারলে কী করবেন?

অনলাইনে আবেদন করার সময় এনআইডি বা মোবাইল নম্বর শনাক্ত না হলে, OTP না এলে কিংবা আবেদন জমা দিতে সমস্যা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। আপনার নিবন্ধিত তথ্য সিস্টেমে ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বলুন।

কেউ অনলাইনে আবেদন করে দেওয়ার কথা বলে ব্যক্তিগত বিকাশ বা নগদ নম্বরে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা পদ্ধতিতে আবেদন ও ফি পরিশোধ করুন।

টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড হারানো নিয়ে প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড হারিয়ে গেলে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?

উত্তর: আগে থেকেই উপকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত থাকলে নতুন করে উপকারভোগী হওয়ার আবেদন নয়, ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্ন: ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য কি নতুন এনআইডি প্রয়োজন?

উত্তর: না। সাধারণত আগের নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত এনআইডি তথ্য দিয়েই পরিচয় যাচাই করা হয়।

প্রশ্ন: আগের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকলে কী করব?

উত্তর: টিসিবি কার্ডে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বন্ধ বা পরিবর্তিত হয়ে থাকলে প্রথমে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসে যোগাযোগ করুন। নম্বর পরিবর্তনের অনুমোদিত পদ্ধতি জেনে নিন।

প্রশ্ন: ডুপ্লিকেট কার্ডের জন্য কি ১০৫ টাকা দিতে হবে?

উত্তর: একটি সরকারি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশে ১০৫ টাকা ফি উল্লেখ রয়েছে। তবে সব এলাকার জন্য একই ফি প্রযোজ্য কি না, তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।

প্রশ্ন: কার্ড হারালে কি টিসিবির পণ্য কেনার সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে?

উত্তর: কার্ড হারানোর পর আপনার উপকারভোগী হিসাব বা সুবিধার বর্তমান অবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট টিসিবি কর্তৃপক্ষের কাছে যাচাই করুন। ডুপ্লিকেট কার্ড হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত পণ্য কেনার বিকল্প ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও জেনে নিন।

উপসংহার

টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। উপকারভোগীর এনআইডি ও কার্ডে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য দিয়ে ডুপ্লিকেট কার্ডের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কার্ড পেতে সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অনলাইনে আবেদন বা টাকা পরিশোধের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ নিয়ম নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here